মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন
এম এ মান্নান, ফুলপুর,স্টাফ রিপোর্টার : পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চান রিয়াদ আহমেদ। এছাড়া বাংলাদেশের যে কোন এয়ারলাইন্সে বিমান চালাতে চান ময়মনসিংহের ফুলপুরের কৃতি সন্তান রিয়াদ আহমেদ। শুক্রবার (২৬ মে) ফিলিপাইনে এয়ার ওয়ার্কস এভিয়েশন একাডেমি থেকে পাইলট হিসেবে সনদ পাওয়ার পর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালার অপরূপ সৃষ্টির মাঝে সবচেয়ে অবাক করা সৌন্দর্য আকাশের উপর, মেঘের ভেতর। ওই সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য আল্লাহ তায়ালা আমাকে যে সুযোগ করে দিয়েছেন এজন্য আল্লাহ তায়ালার প্রতি লাখো কোটি শোকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ। এখন বাংলাদেশের যে কোন এয়ারলাইন্সে আমি বিমান চালাতে চাই। এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। রিয়াদ আহমেদ ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌরসভার কাউন্সিলর আব্দুল হামিদের ভাতিজা ও আমুয়াকান্দা কলের বাড়ির হাজী সুলতান আহমেদ ও ফাতেমা বেগম দম্পত্তির তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট ছেলে। ২০১২ সনে তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী হয় ফুলপুর সানবীম প্রি-ক্যাডেট হাই স্কুল থেকে। পরে ২০১৮ সনে ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে এসএসসি ও ২০২০ সনে ময়মনসিংহের এ্যাডভান্স রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে গৌরবের সাথে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশে একটি পাইলট ট্রেনিং একাডেমিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং নির্বাচিত হন কিন্তু উহা বিদেশী মালিকানাধীন হওয়ায় অজানা কারণে অদ্যাবধি এর ক্লাস শুরু করা হয়নি। ওই একাডেমি থেকে যথাসময়ে সাড়া না পেয়ে ২০২২ সনের মার্চ মাসে তিনি ফিলিপাইনে এয়ার ওয়ার্কস এভিয়েশন একাডেমিতে ভর্তি হন। ছোটবেলা থেকেই রিয়াদের মনে ব্যতিক্রম কিছু করার ইচ্ছা কাজ করতো। সেই ব্যতিক্রমী ইচ্ছা থেকেই পাইলট পেশা বেছে নেন তিনি। হোয়াটসঅ্যাপে রিয়াদের সাথে কথা হলে এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, পাইলট ট্রেনিংয়ের প্রক্রিয়াটা একটু দীর্ঘ সময়ের। প্রথমে প্রাইভেট পাইলট হতে হয়। সেজন্য লিখিত পরীক্ষা হয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অধীনে। এরপর নির্দিষ্ট কিছু ঘন্টা সরাসরি বিমান চালাতে হয়। রিয়াদ এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ ঘন্টা বিমান চালিয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সবশেষে সিভিল এভিয়েশন থেকে একজন সিনিয়র পাইলট বিমান চালানোর দক্ষতা পরীক্ষা নেন। একই পদ্ধতিতে কমার্শিয়াল পাইলট হতে হয়। রিয়াদ তা সম্পন্ন করেছেন এবং পরীক্ষায় গৌরবের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুক্রবার এয়ার ওয়ার্কস এভিয়েশন একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে পাইলট প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায় সনদ প্রদান করে। এসময় ফিলিপাইন সিভিল এভিয়েশন সেফটি ইন্সপেক্টর ও এয়ার নেভিগেশন সেফটি ও ওভারসীজ অফিসের চীফ ক্যাপ্টেন ফ্লোরেন্দো জোস সি. একিনো, ম্যাকতান সেবু আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের জুনিয়র জেনারেল ম্যানেজার জুলিয়াস জি. নেরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, এভিয়েশন একাডেমিতে বিমান, আবহাওয়া, আকাশপথ, বিমানবন্দর, রেডিও, স্বাস্থ্য, পরিকল্পনা এবং বিমানের কার্যক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরীক্ষায় সফল হন রিয়াদ। তার এ অর্জনের পেছনে কার কার অবদান রয়েছে তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার এই পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি যার অবদান, যে না থাকলে হয়তো আমার পাইলট হওয়া হতো না; তিনি হলেন আমার বড়ভাই আশিক আহমেদ। এছাড়া আব্বা-আম্মাসহ পরিবারের সবার সার্বক্ষণিক সাপোর্ট আমার সামনে এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে। পেশাগত দক্ষতা ও সততার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করাসহ সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান রিয়াদ আহমেদ। এ ব্যাপারে তিনি সকলের দোয়া কামনা করেন।